সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয়-সাবেক এমপি লালু

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে দেখা করতে আসে। বিদ্যুৎ এসে বলে, এখনো বেঁচে আছি, মরিনি। সরকারের ভয়াবহ লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। মিথ্যা গল্প সাজিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা যাবে না। দেশের মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না। এই অবৈধ সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। জনগণ ফুঁসে উঠছে। অচিরেই এ সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠবে। বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে নওগাঁ জেলা বিএনপির আয়োজিত নওজোয়ান মাঠে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তবে তিনি এ কথা বলেন। নওগাঁ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু বক্কার সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ এর সঞ্জালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক এমপি লালু আরো বলেন, এই সরকার বিদ্যুতের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। লুট করে বিদেশে পাঠিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে শুধু বিদ্যুৎখাতে লোকসান হয়েছে আঠাই শ হাজার কোটি টাকা। এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার এদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে লুটপাট করা, মিথ্যা বলা। ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। সেজন্য রাতারাতি কুইক রেন্টাল করলেন। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে কুইক কমিশন বিদেশে টাকা পাচার করেছে। কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী অবৈধভাবে পাচার করা টাকা বৈধভাবে দেশে আনার কথা বলছে। তিনি আরো বলেন, এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের জন্য তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে এলে বিএনপিকে চা খাওয়াব’ শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবেক এমপি লালু বলেন, তার কার্যালয়ে গেলে চা খাওয়াবেন। তার আগে বলে দেন নিরেপক্ষ সরকার সিস্টেম এনে দিচ্ছি। তাহলে চা খাওয়াতে অসুবিধা কী? সমস্যার সমাধান হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরেপক্ষ সরকার। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আর একবার যুদ্ধ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-সার্বেভৌমত্বে প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত করতে হবে। দেশের মানুষ তার মুক্তি চায়। দেশ ও দেশের মানুষকে এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আগামীতে গণতন্ত্র ফিরবে আনতে হবে। তাই এই গণবিরোধী সরকারকে আর সময় দেয়া যায় না। তিনি সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দেয়ার আহবান জানান। অন্যথায় জনদাবি জনগণ রাজপথেই আদায় করবে ইনশাঅল্লাহ। বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-১ আসনের সাবেক এমপি ডা: ছালেক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু , নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি পৌর মেয়র নাজমুল হক সনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধুলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুুল ইসলাম টুকু, শেখ রেজাউল ইসলাম, আমিনুল হক বেলাল, মামুনুর রহমান রিপন, শফিউল আজম ভিপি রানাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন।