নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্রুপের হামলায় সজীব খুন, গ্রেফতার ৭

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁদমারি এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলা ও ছুরিকাঘাতে নিহত কিশোর সজীব হত্যাকাণ্ডে মামলা হয়েছে। মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত সজীবের বাবা কামাল হোসেন সোমবার (০১ আগস্ট) বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর রোববার (৩১ জুলাই) রাতেই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকে ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোর। গ্রেফতারকৃতরা হলো-সিয়াম (১৮), সাব্বির (১৮), তৈয়ব (১৮), রাহাত (১৮), লিংকন চন্দ্র দাস (১৮), নাজমুল (১৮) ও রাকিব (২০)। গ্রেফতারের পর এই সাত আসামিকে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সোমবার (১ আগস্ট) আদালতে পাঠিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ছাড়া সোমবার দুপুরে আরো পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার হাজীগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিপ্লব কুমার চৌধুরী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় সজীবকে। ইতিমধ্যে সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সময় নিউজকে বলেন, ১৩ আসামির মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। এলাকাবাসী জানায়, শহরের উত্তর চাষাঢ়া ও ফতুল্লার চাঁদমারি এলাকার কিশোর বয়সের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ঝগড়া বিবাদ এবং উত্তেজনা চলছিল। রোববার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে চাঁদমারি এলাকায় যায় সজীব। এ সময় ওই এলাকায় প্রতিপক্ষ কিশোর গ্রুপ সজীবের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর অবস্থায় সজীবকে সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত সজীব শহরের উত্তর চাষাঢ়া রামবাবুর পুকুরপাড় এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী কামাল মিয়ার ছেলে এবং বড় দুই বোনের একমাত্র ভাই। স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে এলাকার সমবয়সী কিশোর গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সজীব।