আর্টিকেল নাইনটিনের সংবাদপত্রে রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক সংবাদের তুলনামূলক গবেষণা প্রতিবেদন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি-ঢাকা, আগস্ট ০৩, ২০২২ঃ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে টেকসই শরণার্থী-হোস্ট ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করার জন্য সংবাদপত্রের আরও সংবেদনশীল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মত বিপদাপন্ন ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় সংবাদপত্রগুলোর জনতুষ্টিবাদ, স্টেরিওটাইপিং ও ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার নীতি পরিহার করতে হবে প্রতিবেদন করার সময়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরায্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন এবং জার্মান সংস্থা ডি ডব্লিউ একাডেমির যৌথ প্রয়াসে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন নিয়ে করা একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘মিডিয়া ফ্রেমিং অফ রোহিঙ্গা রিফিউজি ইন সিলেক্টেড ন্যাশনাল এন্ড লোকাল নিউজপেপার অফ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণাটি করেন ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর অধ্যাপক ডঃ দ্বীন মোহাম্মাদ সুমন রহমান। গতকাল, আগস্ট ০২, ২০২২ তারিখে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণাটি করার মূল উদ্দেশ্য হল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোর সংবাদ প্রকাশের দৃষ্টিভঙ্গি শনাক্ত করা ও তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ধরণ কিরকম হওয়া উচিত তার সুপারিশ প্রণয়ন।

বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। ডি ডব্লিউ একাডেমির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া মার্শাল এবং আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুমকী ফারহানা সহ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, কূটনৈতিক, গবেষক, শিক্ষক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ তার সীমিত সম্পদ নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে সংহতির একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ স্থাপন করেছে। শুরুতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নিঃশর্ত সংহতির যে মনোভাব ছিল তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমানের উন্নতির জন্য স্বাগতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্পর্কে স্বাগতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার বলেন, “জার্মান রোহিঙ্গাদের অবাধ, স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেয়৷ বাংলাদেশে আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকে সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক মতামতও প্রভাবিত করে, সেহেতু রাজনীতিকরণের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রিপোর্ট করার জন্য সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।”

ডি ডব্লিউ একাডেমির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া মার্শাল বলেন, “২০১৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বরে তুরস্কের উপকূলে ৩ বছর বয়সী আয়লান কুর্দির মরদেহ পড়ে থাকার ছবি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তুলেছিল। এই একটি ছবি শরণার্থীদের বিষয়ে ইউরোপের নীতি পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। সরকার, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের পলিসি নির্ধারণে এবং দৃষ্টি আকর্ষণে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জন্য একটি দেশের গণমাধ্যম কিভাবে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের খবর তুলে ধরছে তার প্যাটার্ন দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

অধ্যাপক ডঃ সুমন রহমান, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, বলেন, “মিডিয়া ফ্রেমিং একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস। একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে আসন্ন ভবিষ্যতে মানুষের কি ধরণের মতামত হবে তা বুঝতে সাহায্য করে মিডিয়া ফ্রেমিং।