তানোরে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণে বাধা দিঘি পুকুর গিলছে রাস্তা

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে রাস্তার প্রটেকশন ওয়াল দিতে দিচ্ছেন না বিশাল দিঘি পুকুরের মালিক বুলবুল ও তার ছেলে আতিকুর বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কলমা বিল্লি যাওয়ার দেউল গ্রামে ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। এঘটনায় কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার ও স্হানীয়দের অনুরোধেও প্রটেকশন ওয়াল দিতে দিচ্ছেন না তানোর পৌর এলাকার গোকুল গ্রামের প্রভাবশালী বুলবুল ও তার ছেলে আতিকুর রহমান। এতে করে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ধসে পড়েছে। ফলে দ্রুত প্রটেকশন ওয়াল দিতে না পারলে রাস্তার চরম বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হবে। জানা গেছে, তানোর পৌরসভার তালন্দ সুমাসপুর হরিদেবপুর হয়ে কলমা বিল্লির জনগনের এক মাত্র যাতায়াতের রাস্তা টি। রাস্তার কাজ শেষ হলেও চলছে কার্লভাট ও দুপাশে ঘাস লাগানোর কাজ। দীর্ঘ ১৭ কিলোমিটার রাস্তায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার মত। স্হানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ( RCIP) এর আওতায় এডিবির অর্থায়নে দীর্ঘ এই রাস্তাটি তৈরি হয়েছে। পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ড হরিদেবপুর হয়ে তালন্দ ইউপি এরিয়া দেউল গ্রাম। গ্রামের শুরু থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় পাচ ছয় শো মিটারের লম্বা পুকুর। যা দেউল দিঘি হিসেবে পরিচিত। এই দিঘির মালিক পৌর এলাকার গোকুল গ্রামের বুলবুল হোসেন। স্হানীয়রা জানান, একাধিক বার এলজিইডি প্রকৌশলী ঠিকাদার এবং গ্রামবাসী বলার পরও বুলবুল ও তার ছেলে আতিকুর রহমান প্রটেকশন ওয়াল দিতে দেয় নি। তাদের সাব কথা রাস্তা দিঘির মধ্যে পড়েছে খাজনা মওকুফ না করলে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করতে দিবেই না। না দেওয়ার কারনে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ভাঙ্গন ধরেছে। দিঘির মালিক বুলবুল হোসেন জানান, পুরো রাস্তা দিঘি বলেই আছে। কিন্তু খাজনা দিতে হচ্ছে পুকুর বলে। খাজনা মওকুফ না করলে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করতে দিব না। সরকারি কাজে বাধা দিতে পারেন জানতে চাইলে তিনি জানান আমার জায়গায় কি করব সেটা আমার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার বলেও দম্ভক্তি প্রকাশ করেন। রাস্তা নষ্ট হলে সরকার পুনরায় মেরামত করে দিবে সমস্যা কোথায়। ঠিকাদার ওয়াসিম জানান, প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণের জন্য কিছু পিলার পুতা আছে। এরপর থেকে দিঘি পুকুরের মালিক বুলবুল করতে দেয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, রাস্তাটি সদ্য নির্মিত হয়েছে। প্রায় ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। দিঘি পুকুরের মালিক বুলবুল কে একাধিক বার অনুরোধ করা হলেও তিনি মানছেন না। নির্বাহী স্যারের সাথে পরামর্শ করে সমাধানের ব্যবস্হা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বিষয় টি নিয়ে প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করে সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ