ঝিনাইদহে দিনের পর দিন সাপের ভয় দেখিয়ে বেদে সম্প্রদায়ের চাঁদাবাজি,রুখবে কে?

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-গলায় সাপ নিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষকে ভয় দেখিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। সাপ দেখলে অনেকেরই গা শিউড়ে ওঠে। আর এই ভয়কে পুঁজি করে বেদেরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে নাছোড়বান্দার মতো টাকা আদায় করেন তারা। বৃহস্পতিবার (৪ আগষ্ট) সকাল ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের সমবায় মার্কেট, পোষ্ট আফিস মোড়, হাটের রাস্তা, আরাপপুর, চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড মুজিব চত্বর ও হামদসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা মেলে সাপ দেখিয়ে চাঁদাবাজির এক ভয়ানক দৃশ্য। দেখা গেছে, গলায় সাপ নিয়ে বিভিন্ন দোকানসহ সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে টাকা চাচ্ছেন বেদে পল্লির ময়না খাতুন নামে এক নারী। এ দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। ভয়েই অনেকে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আর টাকা না দিলে সাপ এগিয়ে ধরে সেটির জিহ্বা নাড়ানোর দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে ভদ্রলোকদের পথ রোধ করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ময়না খাতুন নামে এই বেদে নারীর বাড়ি ঢাকার মুন্সিগঞ্জ জেলার খয়রা গ্রামে। বর্মতানে থাকেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বেদে পল্লিতে। বেশ কিছু দিন ধরে এক পুত্র সন্তান নিয়ে সেখানে থাকছেন তিনি। তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জ জেলার একই এলাকার লিটন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এর পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই ছেলে সন্তান। গত ৬ মাস আগে লিটন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তিনি ছোট ছেলে রিপনকে নিয়ে চলে আসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায়। সাপের ভয় দেখিয়ে টাকা উপার্জন করে সংসার চালান তিনি। ময়না খাতুন বলেন, ছেলেকে মানুষ করার জন্য পথে ঘুরে ঘুরে সাপ দেখিয়ে টাকা নেই। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। এ দিয়েই সংসার চালে। আমার মতো অনেকেই সাপ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোজগার করেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, বেদে নারীদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে সাপের ভয় দেখানো হয়। পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের থামিয়ে সাপের ভয় দেখানো হয়। এতে অনেকেই ভয় পেয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।