বগুড়ার দোবাড়িয়ায় বিল দখলকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউপির দোবাড়িয়া গ্রামে শত শত বছর ধরে ভোগ করে আসা একটি বিল দখলকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ (০৫-০৮-২২) শুক্রবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শত শত নারী পুরুষ দোবাড়িয়া মধ্যপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন পীরগাছা- মহাস্থান আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের উপর দায়ের করা মিথ্যা এবং হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান । এসময় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানান, আমরা বগুড়া জেলার সদর থানার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের দোবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। আমরা সবাই গ্রামে মিলেমিশে বসবাস করি আসছি৷ আমাদের মাঝে কলহ বিবাদ নেই। অনেকেই ব্যবসা-বানিজ্য ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা দোবাড়ীয়া মধ্যপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায় করি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা উক্ত মসজিদের উন্নয়ন এর জন্য মসজিদের উত্তর পার্শ্বে কিছু জমিজমা পত্তন দিয়ে উক্ত মসজিদের যাবতীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করতো যা আজতক চলমান রয়েছে।
কিন্তু বিগত কিছুদিন পূর্বে আমাদের দোবাড়ীয়া জামে মসজিদের পত্তনকৃত সম্পত্তি জনৈকা সাদিকা নাসিম বানু (৩০) সে নিজস্ব সম্পত্তি বলে দাবি করেন। জনৈকা সাদিকা নাসিম বানু উক্ত সম্পত্তি (পুকুর) দাবি করার পর মসজিদ  কমিটি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের মন্দির কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার কাছে সম্পত্তির (পুকুর) কাগজ দেখতে চাইলে সে কোন সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। তখন আমরা উক্ত সম্পত্তির (বিল বা পুকুর) নিয়ে ৭২৪/২০২০ একটি মোকর্দ্দমা জেলা বগুড়ার ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করি, যা এখন পর্যন্ত আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু জনৈকা সাদিকা নাসিম বানু ও তাহার ভগ্নিপতি এএসপি আখিরুন বিজ্ঞ আদালতকে অবজ্ঞা করে জোর পূর্বক উক্ত সম্পত্তি (বিল) অবৈধ ভাবে দখল করার জন্য বিভিন্ন সময়ে ভাড়াকৃত সন্ত্রাসী এনে দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমরা গ্রামবাসী নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ৷ তৎকারণে জনৈকা সাদিকা নাসিম বানু ও তার ভগ্নিপতি আখিরুল ইসলাম সমগ্র দোবাড়িয়া গ্রামবাসীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় মিথ্যা বানোয়াট ও সাজানো ক্রিমিনাল মামলা পর্যায়ক্রমে দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে আমরা জামিনে আছি। কিন্তু সাদিকা নাসিম বানু আবারও ৭৪৭/২২ (সদর) মামলাটি আনায়ন করে। তৎপর উক্ত মামলায় ২জন আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বিভিন্ন সময় সাদিকা নাসিম বানুকে অনুরোধ জানাই যে সিভিল মোকাদ্দমার রায়ের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তি (বিল) ভোগ দখল করেন। কিন্তু তিনি গ্রামবাসীর কথা কর্ণপাত না করে একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে অসহায় সহজ সরল গ্রামবাসীদের হয়রানী করছে।
তাহার ভগ্নিপতি ও পুলিশের এএসপি আখিরুল ইসলাম বর্তমানে কাউন্টার টেরিজম ইউনিট ঢাকায়, কর্মরত হওয়ায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক প্রশাসনিক অপকর্ম তৎপরতা বজায় রেখেছে। যার জন্য পুরো গ্রামবাসী অতিষ্ট ও দূর্বিষহ জীবন যাপন করছে। একপর্যায়ে সেখানে গ্রামবাসীদের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে এসে লাহিড়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু নাসের আপেল মাহমুদ বলেন, দ্রুত এবিষয়ে উভয় পক্ষের সাথে বসে মিমাংসা অতঃপর মামলা প্রত্যাহারের দাবি করা হবে মর্মে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোন নিরীহ মানুষকে যেন আটক বা হয়রানি না করা হয়। পরিশেষে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দ্বারা উক্ত বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।