জাতীয় শিল্পকলা পদক পেলেন রাবি অধ্যাপক মলয় ভৌমিক

রাবি প্রতিনিধি : জাতীয় শিল্পকলা পদক পেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মলয় কুমার ভৌমিক। নাট্যকলায় বিশেষ অবদান রাখায় তিনি এ পদক পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

গত মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমি পদক ২০১৯ ও ২০২০ এর বিষয়ে নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী  এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন।

পদকপ্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ভৌমিক বলেন, পদকের জন্য কাজ করি না। নাটককে ভালবেসে কাজ করি। গুণী বিচারকরা আমাকে কাজের জন্য মনোনীত করেছেন এটা অন্যরকম ভালোলাগা। এমন এক পরিস্থিতিতে পদকটা পেলাম যখন করোনা মহামারীর জন্য দেড় বছর ধরে থিয়েটারে করতে পারছি না।এটা খুব খারাপ লাগা কাজ করে।

অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। নাটকে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

এই নাট্যব্যক্তিত্ব ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত অনুশীলন নাট্যদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
বাংলাদেশ পথনাটক আন্দোলন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মুক্তনাটক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯৭১ সালে ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া ১৯৯২ সালে ঢাকার লোকনাট্যদল তাঁকে নাট্যকর্মী পদক প্রদান করে। ২০০৮ সালে মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, ২০০৯ সালে আরণ্যক নাট্যদল কর্তৃক আরণ্যক দীপু স্মৃতি পদক ও অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় সম্মাননা ২০২১ সহ আরো অনেক সম্মাননা প্রাপ্ত হন।

প্রসঙ্গত, দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজন এবং তাঁদের কর্মকে চিহ্নিত করে শিল্পকলা পদক দেয়া হয়। সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিবছর শিল্পকলা পদক দিয়ে থাকে। এবার করোনা মহামারীর কারণে ২০১৯ ও ২০২০ এই দুই বছরের পদক একসঙ্গে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।