মৎস্যজীবি বেলাল হত্যার আসামী এক বছরেও হয়নি গ্রেফতার

তানোর প্রতিনিধি: তানোর উপজেলার সিমান্তবর্তী ভাঁরশো ইউনিয়নে পরিকল্পিত ভাবে মৎস্যজীবি বেলাল কে এলকাহল জাতীয় বা শরীর গরম করানো ঔষুধ সেবন করিয়া হত্যা করেন প্রভাবশালী ধীরেন চন্দ্র। লোম হর্ষক এই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে রেকর্ড না করে উল্টো মরদেহ নিয়ে চলে নানান ধরনের কাহিনী। পরে অবশ্য লাশের ময়না তদন্ত করে দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে জানান বেলালের স্ত্রী আফরোজা বিবি। তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন( ইউপি) গ্রামে ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে ঘটে লোম হর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনাটি। পরে বাধ্য হয়ে আফরোজা স্বামীর বিচার পেতে চলতি বছরের মার্চ মাসের ২২ তারিখে নওগাঁর মোকাম বিজ্ঞ ২নং আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেন নওগাঁ পুলিশের পিবিআই শাখাকে। কিন্তু রহস্য জনক কারনে মামলার এত দিন অতিবাহিত হলেও আসামী ধীরেন প্রকাশ্যে চলাফেরা ও মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে লাগাতর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে মামলার বাদীনি হওয়ার কারনে হুমকি অন্যদিকে ছোট কোলের শিশুকে নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। আসামীর গ্রেফতারের দাবিতে গ্রামবাসী মানববন্ধন করেছেন কিন্তু টাকা নামক বস্তুটির কাছে নির্বিকার সবাই। মামলার এজহারে উল্লেখ, বিগত ২০২১ সালের ২৮ আগষ্ট তারিখ মঙ্গলবার তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন( ইউপির) ভারশোঁ গ্রামের মৎস্যজীবি বেলাল উদ্দিনকে নিজের পুকুরে মাছ ধরার জন্য ডাকেন ওই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত দেবা বারিকের পুত্র শ্রী ধীরেন চন্দ্র। ওই দিন নিজের অসুস্থতার কথা বলেন বেলাল। কিন্তু ধীরেন তাকে বলে আমি তোকে শরীর ভালো করার মত ঔষুধ দিব খেয়ে মাছ মারলে কোন সমস্যা হবে না। সকাল ৬ টার দিকে বেলালকে পুকুরে নিয়ে গিয়ে অমানুষ ধীরেন ঔষুধ সেবন করিয়ে পুকুরে নামিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সটকে পড়েন। পরে পাশের এক মহিলা মরদেহ দেখতে পেয়ে বেলালের পরিবারকে খবর দিলে লাশ তুলে দেখে তিনি মারা গেছেন। সকাল ৯ টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে দিনভর চলে পুলিশ প্রশাসনের নাটকীয়তা। বাধ্য হয়ে নওগাঁ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তারপর দাফন সম্পন্ন হয়। বেলালের অসহায় স্ত্রী আফরোজা জানান, থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম নেয় নি। পরে কোর্টে মামলা করি। আদালত পিবিআই পুলিশকে তদন্তের জন্য দেন। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলেও আসামী দেদারসে চলাফেরা করছে। তারা ক্ষমতাবান টাকা ওয়ালা, আর আমি রাস্তায় মাটি কেটে খায়। ধীরেন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। কারন আমার স্বামীর মরদেহ অন্যারা দেখেছিল। তারা পুকুরে ছিল না। যা মামলার স্বাক্ষী ভারশোঁ গ্রামের মোনতাজ, আনসার ও জালাল সবই জানে। তারা সবাই পুকুর থেকে পালিয়ে গেছে। কয়েকদিন পিবিআই পুলিশের এসআই সাজ্জাদ এসে ধীরেনের সাথে কথা বলে চলে যান। এসআই সাজ্জাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত চলছে,আসামীকে ধরা যাচ্ছেনা, এত সময়ে কোন ব্যবস্থা ও পোষ্ট মটেম রিপোর্টের কি অবস্থা তিনি জানান পোষ্ট মটেমের আবেদন করা হয়েছে, হাতে পাওয়া যায় নি, তবে টু কপিতে এলকাহলের কথা উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় বেশকিছু ব্যক্তিরা জানান, এমন লোমহর্ষক ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। কারন টাকায় এখন আইন, তানা হলে এত দিনেও কোন ব্যবস্থা হবে না কেন। ধীরেনের বাড়ীতে মাঝে মধ্যেই এসআই সাজ্জাদ আসেন। আর পোষ্ট মটেম রিপোর্টও হাতিয়ে নিয়েছেন ধীরেন। তাদের প্রচুর টাকা ও ক্ষমতা, তাদের পরিবারের একজন ঢাকায় থাকেন। তিনি সব কিছু করছেন। তাদের আলাদায় বড়ায়। বেলালকে মেরেছে বাড়াবাড়ি করলে তার স্ত্রী ও কোলের শিশুকেও মেরে ফেলবে। ধীরেনের সাথে কথা বলা হলে তিনি অভিযোগ অস্বিকার করে দাপটের সাথে হুমকি দিয়ে বলেন মামলা হয়েছে, সে টা কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় জানা আছে। এসব বিষয়ে কথা বললেই সমস্যা। তার এক আত্মীয় পরিচয়ে এই প্রতিবেদকের মোবাইলে ০১৭২০-৪১৩১৮৯ নম্বর থেকে কল করে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি ঢাকার ধানমন্ডীতে থাকি, আগামী শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে ভারশোঁ যাব, সেখানে আসতে হবে নইলে খবর খারাপ আছে, থানার দালালি চলবে না, হত্যা হয়েছে না কি হয়েছে সেটা আমরা বুঝবে। তিনি অত্যান্ত মেজাজে বলেন ঢাকায় সেরা সেরা প্রশাসন ও সাংবাদিক আমার পকেটে বন্ধি।