ভারত ভ্রমণে চালু হচ্ছে ক্যাশলেস লেনদেন, কেটে যাবে ভিসা জটিলতাও

সঞ্জু রায়, নয়াদিল্লী (ভারত) থেকে: ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের সস্পর্ক ইতিবাচকভাবে আরো এগিয়ে নিতে কাজ করছে ভারত সরকার। ভারতে আসার জন্য আর ডলার আনার দরকার হবে না। টাকা-রুপি কার্ড চালু হয়ে গেলে ভ্রমণকারীরা ক্যাশলেস লেনদেন করতে পারবেন। ইউপে’র মাধ্যমে ভারতে সব ধরনের খরচ করতে পারবে। এছাড়াও ভারতের আসতে বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তা আগামী ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগ) স্মিতা পান্ত।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী দিল্লীতে সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেখানেই স্মিতা এই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গত বছর ভারত ১৬ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করেছে। বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুত্ব অনেক গভীর যা অন্য কারো সাথে তুলনা করা বোকামি। তাই বাংলাদেশের সকল বিষয় দিল্লী সদাই আন্তরিকভাবেই দেখে।
সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্মিতা পান্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষে ইতিবাচক কণ্ঠে জানান দেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪৬টি প্রকল্প চলমান। এছাড়া ৬৪টি ক্ষুদ্র বিনিয়োগও আছে। দুই দেশের যোগাযোগ খাতে ভারত বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং করছে। গত ৭-৮ বছর নতুন মাত্রায় এগোচ্ছে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। মাঝে মাঝে হয়তো কখনো একটু ধীর আবার কখনো দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, কিন্তু এগিয়েছে। ট্রানজিট ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাণিজ্য ও রপ্তানির সুযোগ দিচ্ছে ভারত। রপ্তানিকারকরা এতে লাভবান হচ্ছেন। স্মিতা আরো বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের সীমারেখা আকাশও নয় নিরাপত্তা ইস্যুতে, কানেক্টটিভি এবং উন্নয়ন সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড প্যানডেমিককালেও বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রম থেমে থাকেনি। তৃতীয় দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতা ও দিল্লি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারছেন।

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত সচিব অরিন্দম বাগচি বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে সেদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানে এমন কিছু নেই, ভারতে এমন কিছু হয় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানে যা বলা আছে, হয়তো সেটাই হবে। তবে ভারত সবসময় প্রতিটি দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক এটাই প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সাথে যার শুরু হয়েছিলো ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেখানে বাংলাদেশের পাশে ছিলো ভারত। তাই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ না পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের বিরোধিতার গুজব উড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাগচী ও যুগ্ম সচিব স্মিতা পান্ত বলেন, ভারতবিরোধীরা যারা এসব তথ্য ছড়ায় তারা ব্রিকসের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া জানে না। ভারত সুযোগ পেলেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তারই অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
তরুণ প্রজন্মের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভারতের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথাও জানান বাগচী। তিনি বলেন, দুই দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম তাদের মাঝে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধিতেও কাজ করছে ভারত। বাংলাদেশিদের জন্য ভারত আরও বেশি স্কলারশিপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। শুধু তাই নয় ইয়ুথ ডেলিগেশন এর মাধ্যমে বাংলাদেশী ইয়ুথদের সুযোগ দিচ্ছে ভারতকে ভিন্নভাবে এক্সপ্লোর করার যাতে বেশ ইতিবাচক ফলাফলও আসছে।
বাগচী দৃঢ়কণ্ঠে বাংলাদেশী সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মাধ্যমে জানান দেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের কাছে কেউ নয়। আমেরিকা বা চীন কি করলো বা বাংলাদেশ তাদের সাথে কিভাবে সম্পর্ক রাখছে তা ভারতের দেখার বিষয় না যতক্ষণ না তা ভারতকে জন্যে নেতিবাচক হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ তাই সবরকম অধিকার তাদের আছে। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব আছে এবং থাকবে যা ভূরাজনৈতিক কারণেই অনেক গুরুত্ব রাখে।
সভায় বাংলাদেশী সাংবাদিকদের মাঝে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জনকণ্ঠের সম্পাদক ওবায়দুল কবির মোল্লা, ডিবিসি নিউজের প্রণব সাহা, মাছরাঙা টিভির রেজওয়ানুল হক রাজা, একাত্তর টিভির শাকিল আহমেদ, নিউজ২৪ টিভির রাহুল রাহা, দিপক আচার্য্য, যুগান্তরের শিপন হাবীব, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাজী শাহেদ, দেশ টিভি ও দৈনিক চাঁদনী বাজারের রিপোর্টার সঞ্জু রায়, যমুনা টিভির শিবলী নোমান প্রমুখ।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগ) নবনীতা চক্রবর্তী, উপ-সচিব বাসুদেব রাভি, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি শিলাদিত্য হালদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।